আম্মা,
আমি চাকরি পেয়েছি। গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর আমার প্রথম ইন্টারভিউ।
হয়ে গেল !!
খবরটা প্রথম আপনিই জেনেছেন। বলেছেন শুরু করতে, আমি করলাম।
শুরু হল নতুন আরেকটি অধ্যায়। এক প্রকার দাসত্বও বলতে পারেন। চাইলেই কি আর ছুটে আসতে পারব ?
সেই সিডরের রাতের মত !
রাত ২ টায় যখন ৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে শুধু আপনাকে দেখার জন্যে বাড়িতে গেলাম। সেই আঁচল আমার মাথায় আর মুখে !!
"আম্মা" বলে ডাকার সেই সুখ !
প্রকৃতি আমাকে রুখতে পারবে না , ভয় হয় যদি কোন মানুষ রুখতে চায়। আপনি তো জানেন আমাকে, "কারো কথা শোনে না" আপনিই তো বলেন।
জানি আপনি ভালো নেই, আমাকে চোখের আড়ালে রেখে আপনি ভালো থাকতে পারেন না।
কিন্তু, আমার এই দূরে থাকা তো আপনাকে ভালো রাখতেই !
আমরা যে মধ্যবিত্ত। আমরাই সওয়ারী, আমরা ছুটে না বেড়ালে এই সমাজ যে থমকে যাবে। তবে, আমি সমাজকে নিয়ে ভাবিনা।
ভাবি আমার আম্মা কে নিয়ে। আপনাকে নিয়ে।
আপনার জন্যই তো আমার এ জীবন।
এই জন্যই তো জীবনে কাউকে কথা দিইনি। স্বপ্ন দেখাইনি, দেখেছি শুধু। কতো কান্না, কতো চোখে দেখেছি !
কাদিনি !
কষ্টে নয়, আমার চোখের জল আনন্দে বেরহয় , শুধু আপনার ভাবনায়। আপনাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নে।
আমার স্বপ্নে আমি আপনার হাসি মুখটাই শুধু দেখি।
ধাপে ধাপে জীবন বদলায়, আমার স্বপ্ন বদলায় না। বদলাবেও না।
যারা আমার বন্ধু-বান্ধবী ছিল বা আছে অনেকেই জানে না আমার ভেতরে কি আছে। কিন্তু তারা ভাবে আমাকে তারা খুব জানে।
ভুল।
আমাকে পুরোপুরি জানেন শুধু আপনি। আর আপনি । আর আপনি।
আব্বাও আমাকে ভালো ভাবে জানেন না। জানার চেষ্টাও করেন না। ঊনি খুব সরল মানুষ। আমাকে বোঝার ক্ষমতা উনার নেই হয়ত। উনাকে সুখ কিনে দিলেই উনি খুশি।
কেনা সুখ আপনার চাই না আমি জানি।
ভেবেছিলাম অনেক লিখব। কিন্তু যা লিখব ভাবছি, সবই তো আপনার জানা। আজ আর নয়। আরেকদিন লিখব।
আম্মা, আমি খুব শীঘ্রই আসব, সেদিন অনেক কেনা সুখ নিয়ে আসব সবার জন্যে।
আপনার জন্যে , শুধু মিথুন।
