Saturday, December 5, 2015

স্বর্গের বেদী...।





সময় গুলো কিভাবে কেটে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না ।

সারারাত কাটে ইংরেজী ডকুমেন্টারি দেখে। অথবা, ইংরেজী ছবি দেখে। হ্যা, গোসল-খাওয়ার মত মৌলিক কাজগুলোও করি কিন্তু রুটিন ঠিক থাকে না। 

গতকাল রাতে একটা ডকুমেন্টারি দেখছিলাম। সাধারন একটা। 
সবুজ পাহাড় আর তাঁর পাদদেশে মিষ্টি পানির আধার। কতরকম পশু-পাখি, পতঙ্গ, আর মাছ সেখানে ! 

পরিচালক সাহেব অনেক রকম প্রানী আর মাছের সাথে সাথে একটু বেশি নজর দিলেন ২ টি পাখির দিকে। ঈগল, আর এক ডুবুরী পাখি। দেখালেন কিভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসে-যায়।

মা-বাবা কত পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করে তোলে। নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাওয়ায়। নানা রকন্ম ঝড়বৃষ্টি থেকে তাদের রক্ষা করে। ধীরে ধীরে বড় করে তোলে। এভাবে একদিন কিভাবে উড়তে হয় , কিভাবে শিকার করতে হয় শিখিয়ে দেয়। 

ডুবুরী শেখায় তাঁর বাচ্চাকে ডুব দিতে, নিজের জন্যে খাবার সংগ্রহ করতে। উড়তে, নিজেকে রক্ষা করতে।

ঈগল শেখায় তাঁর বাচ্চাকে উড়তে। বাতাসে ভর দিয়ে উড়তে। অনেক রকম ভাবে উড়তে ! 

আমি হা করে দেখছিলাম সেই ঈগল শাবকের  উড়ে বেড়ানো। দুটি ডানা মেলে অসীম আকাশের বুকে সেই উড়ে চলা !
সেই স্বাধীনতা !! সেই রোমাঞ্চ !! সেই আত্নবিশ্বাস !!

এরপরের কাহিনী ... 

বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের ছেড়ে দেয় ।  



পরদিন ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরিই হল। বিকাল ৩ টা। রাতে ঘুমাতে  অনেক দেরী হয়। আসলে তখন আর রাত থাকে না, ভোর হয়ে যায়। দিনেও ঘুমাতে পারিনি ভালো। 


তাড়াহুড়ো করে উঠে গোসল করে দুপুরের খাবার খেলাম বিকাল ৪.৩০ এ। কালকের ওই ডকুমেন্টারিটা দেখার পর থেকে মানসিক আবহাওয়া একটু অন্যরকম। আসলে আবহাওয়া ভালো না। 

কারণ, আমার মা-বাবা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ! আমি বেকার।
আমার অবস্থা ঠিক ঐ পাখির মত। 

আমার এক প্রিয় বন্ধু থাকে আমার সাথে। ওকে বললাম, "চলো দাদা ছাদে যাই"। ও রাজী আগে থেকেই।

আমাদের বাসার তিন বাসা পরে একটা ছেলে পায়রা পোষে। প্রতি বিকালেই আকাশে ওড়ে ওই পায়রা গুলো। খুব সুন্দর লাগে !! 

নাহ, মনের আবহাওয়া আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে !! ওই ডানামেলে ওড়া আমার মনকে আরো অস্থির করে তুলছে !

সুর্য ডুবে গেল কখন !! হালকা কমলা আভা পশ্চিমাকাশ জুড়ে। সাথে মুয়াজ্জিনের মধুর ধ্বনি !! আজানের সুরে মনটা একটু হালকা হলো বুঝি !

না ! বড় ঝড়ের লক্ষণ !!

ঝড় শুরু হল পশ্চিমাকাশের আলো মুছে যাওয়ার পরে। 

প্রবল ঝড় ! আমি ডানা ঝাপটাচ্ছি ! আমি ডানা ঝাপটাতে বাধ্য ! ওই নীল আকাশে, ওই দিগন্তে ডানামেলে উড়ব আমি ! এখনই হেরে যাওয়া  ?? অসম্ভব !! 

আমার বন্ধুর সাথে মনের কথা ভাগাভাগি করলাম। দুজনের ই এক অবস্থা !
ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, আপাতত বেকার। 

আমি, ছয় মাস হল গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সফটওয়্যার প্রকৌশলে।  
আরে ভাই, আমিও বেকার। 

আমরা মধ্যবিত্ত তরুণ। আমরা সহজে হার মানি না ! মাঝেমধ্যে খিস্তিমেরে নিজের ভাগ্যকে গালি দিলেও হাল ছাড়িনা।

আল্লাহ যদি চান, তবে উড়ব। একদিন যাব স্কটল্যান্ডের ওই "Highland Heaven" এ। আমার কল্পনায় যেন কোন "স্বর্গের বেদী"। আমি আর আমার বন্ধু যাব- আশা রাখি।



ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 

আমদের জন্য দোয়া করবেন।




                       মিথুন                                                                     সজল
       ১৯-২০ অগ্রহায়ণ ১৪২২- বঙ্গাব্দ                               ১৯-২০ অগ্রহায়ণ ১৪২২- বঙ্গাব্দ





https://www.youtube.com/watch?v=e9s_1yt5hzk  - এই ঠিকানায় গেলে সেই ডকুমেন্টারিটি  দেখতে পাবেন।







Saturday, September 5, 2015

চিঠি...




আম্মা,

আমি চাকরি পেয়েছি। গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর আমার প্রথম ইন্টারভিউ।
হয়ে গেল  !! 
খবরটা প্রথম আপনিই জেনেছেন। বলেছেন শুরু করতে, আমি করলাম। 


শুরু হল নতুন আরেকটি অধ্যায়। এক প্রকার দাসত্বও বলতে পারেন। চাইলেই কি আর ছুটে আসতে পারব ? 

সেই সিডরের রাতের মত ! 
রাত ২ টায় যখন ৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে শুধু আপনাকে দেখার জন্যে বাড়িতে গেলাম। সেই আঁচল আমার মাথায় আর মুখে !! 

"আম্মা" বলে ডাকার সেই সুখ !


প্রকৃতি আমাকে রুখতে পারবে না , ভয় হয় যদি কোন মানুষ রুখতে চায়। আপনি তো জানেন আমাকে, "কারো কথা শোনে না" আপনিই তো বলেন। 


জানি আপনি ভালো নেই, আমাকে চোখের আড়ালে রেখে আপনি ভালো থাকতে পারেন না। 
কিন্তু, আমার এই দূরে থাকা তো আপনাকে ভালো রাখতেই ! 

আমরা যে মধ্যবিত্ত। আমরাই সওয়ারী, আমরা ছুটে না বেড়ালে এই সমাজ যে থমকে যাবে। তবে, আমি সমাজকে নিয়ে ভাবিনা।  
ভাবি আমার আম্মা কে নিয়ে। আপনাকে নিয়ে।

আপনার জন্যই তো আমার এ জীবন। 
এই জন্যই তো জীবনে কাউকে কথা দিইনি। স্বপ্ন দেখাইনি, দেখেছি শুধু। কতো কান্না, কতো চোখে দেখেছি !

কাদিনি ! 

কষ্টে নয়, আমার চোখের জল আনন্দে বেরহয় , শুধু আপনার ভাবনায়। আপনাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নে।
আমার স্বপ্নে আমি আপনার হাসি মুখটাই শুধু দেখি। 

ধাপে ধাপে জীবন বদলায়, আমার স্বপ্ন বদলায় না। বদলাবেও না। 
যারা আমার বন্ধু-বান্ধবী ছিল বা আছে অনেকেই জানে না আমার ভেতরে কি আছে। কিন্তু তারা ভাবে আমাকে তারা খুব জানে। 

ভুল।

আমাকে পুরোপুরি জানেন শুধু আপনি। আর আপনি । আর আপনি।  
আব্বাও আমাকে ভালো ভাবে জানেন না। জানার চেষ্টাও করেন না। ঊনি খুব সরল মানুষ। আমাকে বোঝার ক্ষমতা উনার নেই হয়ত। উনাকে সুখ কিনে দিলেই উনি খুশি। 

কেনা সুখ আপনার চাই না আমি জানি। 

ভেবেছিলাম অনেক লিখব। কিন্তু যা লিখব ভাবছি, সবই তো আপনার জানা। আজ আর নয়। আরেকদিন লিখব। 



আম্মা, আমি খুব শীঘ্রই আসব, সেদিন অনেক কেনা সুখ নিয়ে আসব সবার জন্যে। 





আপনার জন্যে , শুধু মিথুন। 






Tuesday, August 25, 2015

বেহায়া স্মৃতি গুলো ......




আমার স্মৃতিরা, তোরা এত নিচু মাপের কেন ?  কেন তোদের কথা আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানাতে পারি না ! কেন বলতে পারি না আজকের এই দিনে, এত বছর আগে আমি ছিলাম সবচেয়ে সুখী মানুষদের দলে। সেকেলে তোরা !!

এত বেহায়া কেন ? কেন বার বার আসিস ?

এত নিষেধ করি আসতে ! 
  
এত করে বলি, আমাকে ঝাপ দেয়াসনে, আমার প্রিয়তমা 'গড়াই" এর বুকে।  ঘোলা করাসনে !  এই ভর দুপুরে আমাকে একটু -কাজ করতে দে। প্রীয়তমাকে এখন শান্তই ভালো লাগে। ওর বুকে জ্যোৎস্না ভালো লাগে !! ওর চুল বেয়ে আসা বাতাস ভালোলাগে !!!
বেহায়া স্মৃতি, তাও আসে। 

কি হবে গুলতি নিয়ে মাঠ-ঘাট বন-বাদাড় চষে ? পারবি একটাও কানাবক শিকার করতে ? আর এখন তো বন্দুক আছে , মোটরসাইকেল আছে !  বন-বাদাড়ে যাওয়ার দরকার নেই। 
বেহায়া স্মৃতি, তাও আসে। বলে, চল-না যাই ...

সন্ধ্যা হলেই,  ডাহুক ধরব বলে ডাক দিসনে। এখন আমি আড্ডা দেব। বড় হয়েছি, বুঝিস না কেন ? যা এখান থেকে।আমি এখন ইঞ্জিনিয়ার ! বন্ধু- মহল অনেক বড়, দায়িত্বটাও কম নয় । , কাটাবনের দোকান থেকে ডাহুক কিনে দেব তোকে। যা এখন। 

বেহায়া স্মৃতি ! 
আমাকে বড় হতে দিবিনা --রে ?

বৃষ্টি হলেই কেন আসিস ? এত জোরে ধরিস কেন ? যখন-তখন ভেজা যায় না ! বুঝিস না কেন ?
সময় নেই । আরে !!! বৃষ্টির ছবি-স্ট্যাটাস তো ফেসবুকে দিয়েছি !! 
ভিজলে এখন জ্বর হয়। ছবি-স্ট্যাটাস দিলে কতো লাইক, কতো কমেন্ট, অনেক মজা ? না ?

-না । 

বেহায়া, ভাগ এখান থেকে। আমি বড় হয়েছি  !!

-কালীপূজো !! 

কবেরে ??

-কাত্তিকে।

কার্তিকে ? অল্প কদিন !
না রে ,পারব না এবার। অনেক কাজ। ৮-১০ বছর যাইনা তো কি হয়েছে ? পরে যাব ! আরেহ, অনেক টাকা লাগে মেলায় যেতে।  দু-পাচশোতে আর হয়না। হাতের অবস্থাটাও ভালোনা। 


-এবার থাইল্যান্ড থেকে সার্কাস এসেছে মনে হয় !

নারেহ... যা। ব্যাস্ত আছি !

-ননির ক্ষীর আর পালপাড়ার রসগোল্লা ?

বেহায়া, ভাগ এখান থেকে। আমি মিষ্টি এখন কম খাই। ডায়েট করি। 


-মা আজ কি রেধেছে ? 

আমি কি জানি ? 

- বাঁশমতির সাদা ভাত। সর্ষে- ইলিশ, পটল ভাজি লম্বা করে। মসুর ডাল ঘন করে। শীতল পাটিটা নতুন !
 ঐযে মা তাল পাখা হাতে আসছে । 

কই !! মা কই !!  ধুর... সব বেহায়া স্মৃতি।

আমি এখন চাওমিন খাব। বিফ চাওমিন। ভালোই লাগে ! 


মা তো অনেক দূরে। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে আমি। আমাদের মত ছেলেদের মা-বাবার কাছ থেকে দূরে থাকতে হয় । তাদের সপ্ন পূরণ করতে। 

বেহায়ারা তোরা এখন যা। আমি ঘুমাব। 
শুভ রাত্রি...।

-কেয়া বন থেকে কেয়ার ঘ্রাণ না ??








Monday, August 17, 2015

ভয়াবহ বিষয়বস্তু... বাঙালীর শিক্ষা !!



কি বলব আর ?
শিক্ষা যখন শুরু মায়ের কোল থেকে । আর মা যখন বিদেশি ধারাবাহিক নাটক(সিরিয়াল) আর সিনেমা নিয়ে ব্যাস্ত !! 

ভয়াবহ অবস্থা !! বাংলা শেখার আগে শেখে বিদেশি ভাষা ।

ভালো ! খুব ভালো ! 

নামকরা বিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হতে প্রতিযোগিতা প্রাথমিক পর্যায়েই শুরু হয়ে যায় ।

টাকা লাগবে ? কতো টাকা ? 
দে টাকা, আন টাকা, ঢাল টাকা !!

সুশীল-রা চিল্লায়া মরে।
কে শোনে ভাই কার কথা !

সরকার বলে , "ভ্যাট দিলানা বাছা" !! 
স্কুল মালিক-পক্ষ বলে, "ঠিক আছে, চলেন ম্যানেজ করি ব্যাপারটা।"

শিক্ষার্থীদের অবস্থা ভয়াবহ !!

স্কুলে পড়া বোধহয় হয় না। 

তাই তো ওই কচি বয়সেই বাচ্চারা স্কুল শেষে ৮-১০ টা বিষয় নিয়ে ২-৩ টা কোচিং সেন্টারে দেয় ভো দৌড় !! 
দিন শেষে ওদের মন ক্লান্ত হয়ে যায় !!  বাসায় ফিরে দেখে হোম টিউটর অতি উৎসাহে প্রস্তুত !!

ক্লান্ত শরীরে শিক্ষা হয়,  ক্লান্ত মনে হয় না ! 

গ্রাম গুলোতে প্রাথমিকেই অনেক বাচ্চা ঝরে যায় ।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা !! 

কোন সমস্যা নেই !! প্রশ্ন কিনে নাও ! 

টাকা লাগবে ? কতো টাকা ? 
দে টাকা, আন টাকা, ঢাল টাকা !!

সুশীল-রা চিল্লায়া মরে।
কে শোনে রে ভাই কার কথা !

সরকার বলে , "ভ্যাট দিলানা বাছা" !! 
প্রশ্ন ফাঁসকারী বলে, "ঠিক আছে, চলেন ম্যানেজ করি ব্যাপারটা।"

নিম্ন মাধ্যমিকে আবার সেই ভর্তি বানিজ্য। 


টাকা লাগবে ? কতো টাকা ? 
দে টাকা, আন টাকা, ঢাল টাকা !!

সরকার বলে , "ভ্যাট দিলানা বাছা" !! 
স্কুল মালিক-পক্ষ বলে, "ঠিক আছে, চলেন ম্যানেজ করি ব্যাপারটা।


১২-১৬ টা বিষয় !! 
আরেহ, কম হয়ে গেল না !! 
আরো দাউ, এক একটা একই সাথে নিউটন, ডারউইন, আল-কেমি হবে !!

নিউটন ? 
ডারউইন?
আল-কেমি? 

-বুদ্ধি প্রতিবন্ধি হবে ।



মাধ্যমিক সমাপনী পরীক্ষা !
কোন সমস্যা নেই !! প্রশ্ন কিনে নাও ! 

টাকা লাগবে ? কতো টাকা ? 
দে টাকা, আন টাকা, ঢাল টাকা !!

সুশীল-রা চিল্লায়া মরে।
কে শোনে রে ভাই কার কথা !

সরকার বলে , "ভ্যাট দিলানা বাছা" !! 
প্রশ্ন ফাঁসকারী বলে, "ঠিক আছে, চলেন ম্যানেজ করি ব্যাপারটা।"



উচ্চ- মাধ্যমিক, এক কথায় কলেজে ভর্তি হতে হবে !

এত অনিয়ম ভর্তিতে !!  যাহ , সব অনলাইন করে দিলাম !
ভালো ! খুব ভালো ! 

"ভিক্ষা চাই না মা কুত্তা খেদা" এই কথাটি আমার মনে হয় এর পরই বেশিবার বলা হয়েছে। 

যাই হোক ভিক্ষা মিলল ! যার যা মিলল সে তাতেই খুশী !

নিম্ন শিক্ষা শেষ ! ৩-৪ লাখ খরচ মধ্যবিত্তের, ১০-১২ লাখ শেষ উচ্চ মধ্যবিত্তের আর উচ্চ বিত্তদের ব্যাপার এত উঁচু যে আমি বাস্তবে জানি না আর  তা আমার কল্পনায় ও আসে না।

উচ্চ শিক্ষার পালা !এখানে সব বয়াপার উঁচু পর্যায়ে হয়। সরকারী উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠনে বৈধ, অবৈধ দু উপায়েই ঢোকা যায়। তাঁর পরেও অনেক খরচের ব্যাপার ।

অধিকাংশের কপালে সরকারি ভাত নেই। 

কোন সমস্যা নেই ! উচ্চ শিক্ষার দোকানে যাই। 
ওনেক টাকার ব্যাপার !!
অনেকে অনেক কষ্ট করে যোগাড় করে।

সরকার ভাবে, " আহা ! কত টাকা রে !! " 
"ভ্যাট দিলানা বাছা" !! 


কবিগুরু বলেছিলেন......


"মলিন তাস সজোরে ভেঁজে
খেলিতে হবে কষে !
অন্নপায়ী বঙ্গবাসী
স্তন্যপায়ী জীব
জন-দশেকে জটলা করি
তক্তপোষে ব'সে।


ভদ্র মোরা, ষান্ত বড়ো,
পোষ-মানা এ প্রাণ
বোতাম-আটা জামার নীচে
শান্তিতে শয়ান।"



সুশীল-রা চিল্লায়া মরে।
কে শোনে রে ভাই কার কথা !  

হাইকোর্ট রুল জারি করে ! 
কে শোনে রে ভাই কার কথা ! 

উচ্চ শিক্ষা শেষ ! ১০-১৫ লাখ খরচ মধ্যবিত্তের, ২০-৩০ লাখ শেষ উচ্চ মধ্যবিত্তের আর উচ্চ বিত্তদের ব্যাপার আরো উঁচু।

চাকরি পেতে হলে চেয়ারের আকার অনুযায়ী টাকা ঢালতে হয়। 

আমার মত মধ্যবত্তদের মুখে আসতে চায় না , 
"টাকা লাগবে ? কতো টাকা ? 
দে টাকা, আন টাকা, ঢাল টাকা !!"


ওই চাকরি পেলে এই শিক্ষার্থী ঘুষ খাবে না তো কি ঘাস খাবে ?? ওর মা-বাবার বিনিয়োগ করা টাকার গাছ তো টাকা-ই দেবে ? 
নাকি ?

(আমি অত্যান্ত দুক্ষিত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে "উচ্চ শিক্ষার দোকান" বলেছি। আমার মতে, শিক্ষা যখন পন্য-দ্রব্য হয়ে যায়, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে তখন দোকানের মতই লাগে)

আমার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে  দোকানের মত দেখে চোখে জল আসে না। 
কারন আমিও এই শিক্ষাকে পন্য-দ্রব্য তে পরিণত করার ব্যাবস্থার জন্য বিন্দুমাত্র হলেও দায়ী। আমরা সবাই দায়ী।

কি ভাই ? দায় এড়াতে পারেন ?
বাঙালীর মত ওজুহাত দিয়েন না ! মানুষের মত ভাবেন, তাঁর পর মানুষের মত উত্তর দিয়েন। 




Monday, July 6, 2015

ডিজিটাল পানি এবং সর্গ ভ্রমনের গল্প...



প্রিয় পাঠক, ভাষা জ্ঞান হারিয়ে ফেলিয়াছি। গুরুচণ্ডালী ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবেন । 

মূল কথায় আসিয়া পড়ি।
 ১৭-ই রমজান। দুপুরে আমার জানের দোস্ত-বৃন্দের ইফতারের নেমন্তন্ন রাখতে একটু আগেই (৩.৩০ নাগাদ) বাসা থেকে বের হইলাম। স্থান- মিরপুর ১ নং। তাহাদের সহিত ৪ টা নাগাদ মিলিত হইয়া অতি পুলকিত বোধ করিলাম। 

ইফতার তো অনেক দেরি, কি করা যায় ? চল বান্দর-বৃন্দ ঈদ মার্কেটে ঢুঁ দিয়া আসি, আমি প্রস্তাব রাখিলাম। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, বলিতে হইবে ??? 

সমস্বরে হূউউউউ , চল যাই। 

মার্কেট ভরা তেতুল !! নাহ আমার কথা না। কোন এক মনীষী বলিয়াছিলেন। 

যাই হোক, ৩ টা মার্কেট ঘুরিয়া, তেতুল দেখিয়া, ভারী রোজাটা হালকা করিয়া বের হইলাম । ৬.২০- ঘড়িতে। মনের মধ্যে আযান পড়িয়া গেছে। তৃষ্ণায় কাতর বলিলে কাতর শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ হয় না। বলিতে হইবে ( কাতর) টু দি পাওয়ার ১০০। 

ভাজা-পোড়া, ফল-মূল ইত্যাদি কিনিলাম। আর কিনিলাম ২ লিটার ষড়বোত(শরবত)।
কি-সে ষড়বোত ?
বিশুদ্ধ ওয়াসার পানি দিয়ে তৈরি ১ নং কাগজী লেবুর ষড়বোত !! আমি শরবত ওয়ালার সাথে তর্ক করিলাম, ইহা বিশুদ্ধ হইতেই পারে না !!

উনি বলিলেন প্রতিদিন শত শত মানুষ খাচ্ছে !! কই ?? কারোর তো কিছু হয় না !!  আমিও বিশ্বাস করিলাম। আসলে বিশ্বাস করিতে ইচ্ছে হইল। দেশ ডিজিটাল হইতেছে, ওয়াসার পানি কেন বিশুদ্ধ হইবে না ??? খাটি কথা !!

নিরিবিলি আযানের অপেক্ষায় বসিয়া। 

আযান শুরু হয়ার সাথে সাথে ষড়বোতের বোতোলে চমুক লাগাইলাম। আহা ...... কি শান্তি !! প্রায় ১ লিটার খাইয়া ফেলিলাম !! অন্যরা ষড়বোত কম গিলিলো। আ্মার অন্য কিছু খাইবার অবকাশ হইল না। আমি একেবারে চাঙ্গা !! 

ইফতার শেষ করিয়া আবার মার্কেটে ঢুকিলাম । 

১০-২০ মিনিট পার হইতেই হঠাত, পাকস্থলীতে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হইল। পাত্তা দিলাম না । কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই ভূকম্পন নিম্নগামী হইল। 

চাপিয়া ধরিয়া বাসায় ফিরিতে উদ্যত হইলাম। বান্দর-বৃন্দ আমাকে ছাড়িতে চাহে না ! কি বিপদ !! খুলিয়া বলিলাম। 

বান্দর-বৃন্দ বলিল চল দেখি কোন পাবলিক টয়লেট পাই কি না। আমার তো মন মানে না !
আর সহ্য হইতে চাহিল না ! শেষমেশ একটি রিকশা করিয়া দ্রুত বাসায় ফিরিলাম। পেছন দরজার নিরাপত্তা প্রায় ভাঙ্গিয়া পরিয়াছে এমন সময় বাসায় পৌঁছাইলাম। ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ দিয়া, ভাংতির আশা ত্যাগ করিয়া দিলাম দৌড়। পদ-দ্বয় আঁটিয়া ধরিয়া ঘন্টায় ১০০ মাইল বেগে বাসার ভেতর প্রবেশ করিলাম। ৬ তলায় উঠিবার শক্তি-সামর্থ্য বা যোগ্যতা কোনটাই আমার ছিল না। 

নিচে কেয়ার টেকার মামার বাথরুমে ঢুকিয়া মনে হইল সোজা সর্গে প্রবেশ করিয়াছি। আহা ...। মল বিসর্জন দিতে বসিয়া বুঝিলাম আসলে পশ্চাতদেশ দিয়া জল বিসর্জন করিতেছি। বিশুদ্ধ ওয়াসার জল !!!

যাই হোক, সুখ পাইলাম। ইহাকে বলে প্রকৃত সুখ। আহা......। এমন সুখ আমি বাপের জন্মেও পাই নি !!

সর্গ থেকে বাহির হইলাম মনিট দশেক পর। শরীর ঘামিয়া গেঞ্জিটা ভিজিয়া গেছে। একটা জিনিস বুঝিলাম, সর্গে থাকিলে ঠান্ডা-গরম অনূভুত হয় না ।

ডিজিটাল দেশের ডিজিটাল বিশুদ্ধ পানি পান করিয়া পাপ করিয়াছি। নাহ , পাপ করিয়াছি বেশি পান করিয়া।
 প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে ! 
ওষুধের দোকানে গিয়া ওষুধ কিনিলাম। ভাবিলাম , যাই কাকার চায়ের দোকানে গিয়া খাইয়া ফেলি !! 

যেইকথা সেই কাজ, কাকার দোকানে গিয়া ওষুধ ছাড়াইলাম, এক গ্লাস পানি লইয়া খাইতে যাব, এমন সময় মনে হইল ইহা কি বিশুদ্ধ ওয়াসার পানি ?? 

কাকা-কে জিজ্ঞাসা করিতেই সন্দেহ সত্যি হইল ! 

বুকের ভেতর ধড়াস করিয়া উঠিল ! মনে হইল, এই বুঝি আমার হৃদপিণ্ড পশ্চাতদেশ দিয়া বাহির হইয়া গেল !! 

ততক্ষণে ২য় বারের মত সর্গের ডাক শুনিতে পাইলাম।  পদ-দ্বয় আঁটিয়া ধরিয়া ঘন্টায় ৫০ মাইল বেগে বাসার ভেতর প্রবেশ করিলাম। ৬ তলায় উঠিয়া কাজ সারিলাম। 

ওষুধ খাইলাম, সর্গ ভ্রমনের গল্প লিখিতে বসিলাম । 

(এই গল্প লিখিতে লিখিতে আরো দুই বার ঘুরিয়া আসিয়াছি, এখন ভালো। ওষুধটা ভালো ছিল ! )

Tuesday, June 23, 2015

বাঙ্গালী ও দোযখের পাহারাদারের গল্প।



একটা গল্প মনে পড়ল। 

-কেন ? হঠাত গল্প কেন ?

আরে ভাই , গল্পটা শোনেন আগে। 

-বলেন।

এক পাপী বাঙ্গালী। তাকে পাঠানো হল দোযখে।  

-পাপী-তো, অবশ্যই দোযোখে যাবে !! 
ঠিক আছে, গেল। তারপর ?

তাকে পাঠানো হল এক বিশাল ময়দানে।
ধূ-ধূ ময়দান। সেই ময়দান জুড়ে বিশাল - বিশাল আগুনের কূয়া । প্রত্যেক কূয়ার মুখে একজন করে পাহারাদার গদা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। যে পাপী কূয়ার দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে আসছে, গদা মেরে তাকে আবার নিচে ফেলে দিচ্ছে সেই পাহারাদার। 

বাঙ্গালী-টি ভালো করে দেখল একটি কূয়ায় কোনো পাহারাদার নেই !! তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই কূয়ার দিকে। 
তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল, এই কূয়ায় কোনো পাহারাদার নেই কেন ? 
সে বিনীত স্বরে জিজ্ঞাসা করল, "এই কূয়ায় কোনো পাহারাদার নেই কেন ?" 

ফেরেশতা উত্তর দিল, "ওটা বাঙ্গালীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। পাহারাদারের দরকার নেই। 
কেউ উপরে উঠে আসতে চাইলে সবাই মিলে তাকে টেনে নিচে নামিয়ে নেয়। 

-পুরোনো গল্প।  তা, হঠাত এই গল্প কেন ??

গোপাল। 
ভারতীয় সেই ভক্ত যখন নিজেই স্বীকার করছে যে তাকে কেউ মারে নি, তখন আমরা কিছু বাঙ্গালী প্রমাণ করতে ব্যস্ত যে, তাকে মারা হয়েছে। এবং তাতে এই ক্ষুদ্র জাতীর ভাবমূর্তি নামক নক্ষত্রে উল্কা বৃষ্টি হয়েছে। নক্ষত্রটি ধ্বংস হয়ে গেছে। 

আরে ভাই, আমিতো দেখি নক্ষত্রটি দিনে দিনে আরো উজ্জ্বল হচ্ছে !! ধবল ধোলাই হচ্ছে যে !!

আমিও বাঙ্গালী, তবে আমার ভাবমূর্তি এত সামান্যে ম্লান হবে না। 
রক্ত দিয়ে ভাষা কিনেছি। স্বাধীনতা-ও রক্তের দামে কেনা। আছে আর কোনো জাতি ? 

কি ভাই, চুপ কেন ? 

প্রথম গল্পটি নিছক-ই গল্প। 

আমি গর্বিত আমি বাঙ্গালী, আমি গর্বিত আমি বাংলাদেশী ।