সময় গুলো কিভাবে কেটে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না ।
সারারাত কাটে ইংরেজী ডকুমেন্টারি দেখে। অথবা, ইংরেজী ছবি দেখে। হ্যা, গোসল-খাওয়ার মত মৌলিক কাজগুলোও করি কিন্তু রুটিন ঠিক থাকে না।
গতকাল রাতে একটা ডকুমেন্টারি দেখছিলাম। সাধারন একটা।
সবুজ পাহাড় আর তাঁর পাদদেশে মিষ্টি পানির আধার। কতরকম পশু-পাখি, পতঙ্গ, আর মাছ সেখানে !
পরিচালক সাহেব অনেক রকম প্রানী আর মাছের সাথে সাথে একটু বেশি নজর দিলেন ২ টি পাখির দিকে। ঈগল, আর এক ডুবুরী পাখি। দেখালেন কিভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসে-যায়।
মা-বাবা কত পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করে তোলে। নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাওয়ায়। নানা রকন্ম ঝড়বৃষ্টি থেকে তাদের রক্ষা করে। ধীরে ধীরে বড় করে তোলে। এভাবে একদিন কিভাবে উড়তে হয় , কিভাবে শিকার করতে হয় শিখিয়ে দেয়।
ডুবুরী শেখায় তাঁর বাচ্চাকে ডুব দিতে, নিজের জন্যে খাবার সংগ্রহ করতে। উড়তে, নিজেকে রক্ষা করতে।
ঈগল শেখায় তাঁর বাচ্চাকে উড়তে। বাতাসে ভর দিয়ে উড়তে। অনেক রকম ভাবে উড়তে !
আমি হা করে দেখছিলাম সেই ঈগল শাবকের উড়ে বেড়ানো। দুটি ডানা মেলে অসীম আকাশের বুকে সেই উড়ে চলা !
সেই স্বাধীনতা !! সেই রোমাঞ্চ !! সেই আত্নবিশ্বাস !!
এরপরের কাহিনী ...
বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের ছেড়ে দেয় ।
পরদিন ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরিই হল। বিকাল ৩ টা। রাতে ঘুমাতে অনেক দেরী হয়। আসলে তখন আর রাত থাকে না, ভোর হয়ে যায়। দিনেও ঘুমাতে পারিনি ভালো।
তাড়াহুড়ো করে উঠে গোসল করে দুপুরের খাবার খেলাম বিকাল ৪.৩০ এ। কালকের ওই ডকুমেন্টারিটা দেখার পর থেকে মানসিক আবহাওয়া একটু অন্যরকম। আসলে আবহাওয়া ভালো না।
কারণ, আমার মা-বাবা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ! আমি বেকার।
আমার অবস্থা ঠিক ঐ পাখির মত।
আমার এক প্রিয় বন্ধু থাকে আমার সাথে। ওকে বললাম, "চলো দাদা ছাদে যাই"। ও রাজী আগে থেকেই।
আমাদের বাসার তিন বাসা পরে একটা ছেলে পায়রা পোষে। প্রতি বিকালেই আকাশে ওড়ে ওই পায়রা গুলো। খুব সুন্দর লাগে !!
নাহ, মনের আবহাওয়া আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে !! ওই ডানামেলে ওড়া আমার মনকে আরো অস্থির করে তুলছে !
সুর্য ডুবে গেল কখন !! হালকা কমলা আভা পশ্চিমাকাশ জুড়ে। সাথে মুয়াজ্জিনের মধুর ধ্বনি !! আজানের সুরে মনটা একটু হালকা হলো বুঝি !
না ! বড় ঝড়ের লক্ষণ !!
ঝড় শুরু হল পশ্চিমাকাশের আলো মুছে যাওয়ার পরে।
প্রবল ঝড় ! আমি ডানা ঝাপটাচ্ছি ! আমি ডানা ঝাপটাতে বাধ্য ! ওই নীল আকাশে, ওই দিগন্তে ডানামেলে উড়ব আমি ! এখনই হেরে যাওয়া ?? অসম্ভব !!
আমার বন্ধুর সাথে মনের কথা ভাগাভাগি করলাম। দুজনের ই এক অবস্থা !
ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, আপাতত বেকার।
আমি, ছয় মাস হল গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সফটওয়্যার প্রকৌশলে।
আরে ভাই, আমিও বেকার।
আমরা মধ্যবিত্ত তরুণ। আমরা সহজে হার মানি না ! মাঝেমধ্যে খিস্তিমেরে নিজের ভাগ্যকে গালি দিলেও হাল ছাড়িনা।
আল্লাহ যদি চান, তবে উড়ব। একদিন যাব স্কটল্যান্ডের ওই "Highland Heaven" এ। আমার কল্পনায় যেন কোন "স্বর্গের বেদী"। আমি আর আমার বন্ধু যাব- আশা রাখি।
ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমদের জন্য দোয়া করবেন।
মিথুন সজল
১৯-২০ অগ্রহায়ণ ১৪২২- বঙ্গাব্দ ১৯-২০ অগ্রহায়ণ ১৪২২- বঙ্গাব্দ
https://www.youtube.com/watch?v=e9s_1yt5hzk - এই ঠিকানায় গেলে সেই ডকুমেন্টারিটি দেখতে পাবেন।





