আমার স্মৃতিরা, তোরা এত নিচু মাপের কেন ? কেন তোদের কথা আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানাতে পারি না ! কেন বলতে পারি না আজকের এই দিনে, এত বছর আগে আমি ছিলাম সবচেয়ে সুখী মানুষদের দলে। সেকেলে তোরা !!
এত বেহায়া কেন ? কেন বার বার আসিস ?
এত নিষেধ করি আসতে !
এত করে বলি, আমাকে ঝাপ দেয়াসনে, আমার প্রিয়তমা 'গড়াই" এর বুকে। ঘোলা করাসনে ! এই ভর দুপুরে আমাকে একটু -কাজ করতে দে। প্রীয়তমাকে এখন শান্তই ভালো লাগে। ওর বুকে জ্যোৎস্না ভালো লাগে !! ওর চুল বেয়ে আসা বাতাস ভালোলাগে !!!
বেহায়া স্মৃতি, তাও আসে।
কি হবে গুলতি নিয়ে মাঠ-ঘাট বন-বাদাড় চষে ? পারবি একটাও কানাবক শিকার করতে ? আর এখন তো বন্দুক আছে , মোটরসাইকেল আছে ! বন-বাদাড়ে যাওয়ার দরকার নেই।
বেহায়া স্মৃতি, তাও আসে। বলে, চল-না যাই ...
সন্ধ্যা হলেই, ডাহুক ধরব বলে ডাক দিসনে। এখন আমি আড্ডা দেব। বড় হয়েছি, বুঝিস না কেন ? যা এখান থেকে।আমি এখন ইঞ্জিনিয়ার ! বন্ধু- মহল অনেক বড়, দায়িত্বটাও কম নয় । , কাটাবনের দোকান থেকে ডাহুক কিনে দেব তোকে। যা এখন।
বেহায়া স্মৃতি !
আমাকে বড় হতে দিবিনা --রে ?
বৃষ্টি হলেই কেন আসিস ? এত জোরে ধরিস কেন ? যখন-তখন ভেজা যায় না ! বুঝিস না কেন ?
সময় নেই । আরে !!! বৃষ্টির ছবি-স্ট্যাটাস তো ফেসবুকে দিয়েছি !!
ভিজলে এখন জ্বর হয়। ছবি-স্ট্যাটাস দিলে কতো লাইক, কতো কমেন্ট, অনেক মজা ? না ?
-না ।
বেহায়া, ভাগ এখান থেকে। আমি বড় হয়েছি !!
-কালীপূজো !!
কবেরে ??
-কাত্তিকে।
কার্তিকে ? অল্প কদিন !
না রে ,পারব না এবার। অনেক কাজ। ৮-১০ বছর যাইনা তো কি হয়েছে ? পরে যাব ! আরেহ, অনেক টাকা লাগে মেলায় যেতে। দু-পাচশোতে আর হয়না। হাতের অবস্থাটাও ভালোনা।
-এবার থাইল্যান্ড থেকে সার্কাস এসেছে মনে হয় !
নারেহ... যা। ব্যাস্ত আছি !
-ননির ক্ষীর আর পালপাড়ার রসগোল্লা ?
বেহায়া, ভাগ এখান থেকে। আমি মিষ্টি এখন কম খাই। ডায়েট করি।
-মা আজ কি রেধেছে ?
আমি কি জানি ?
- বাঁশমতির সাদা ভাত। সর্ষে- ইলিশ, পটল ভাজি লম্বা করে। মসুর ডাল ঘন করে। শীতল পাটিটা নতুন !
ঐযে মা তাল পাখা হাতে আসছে ।
কই !! মা কই !! ধুর... সব বেহায়া স্মৃতি।
আমি এখন চাওমিন খাব। বিফ চাওমিন। ভালোই লাগে !
মা তো অনেক দূরে। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে আমি। আমাদের মত ছেলেদের মা-বাবার কাছ থেকে দূরে থাকতে হয় । তাদের সপ্ন পূরণ করতে।
বেহায়ারা তোরা এখন যা। আমি ঘুমাব।
শুভ রাত্রি...।
-কেয়া বন থেকে কেয়ার ঘ্রাণ না ??

