প্রিয় পাঠক, ভাষা জ্ঞান হারিয়ে ফেলিয়াছি। গুরুচণ্ডালী ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবেন ।
মূল কথায় আসিয়া পড়ি।
১৭-ই রমজান। দুপুরে আমার জানের দোস্ত-বৃন্দের ইফতারের নেমন্তন্ন রাখতে একটু আগেই (৩.৩০ নাগাদ) বাসা থেকে বের হইলাম। স্থান- মিরপুর ১ নং। তাহাদের সহিত ৪ টা নাগাদ মিলিত হইয়া অতি পুলকিত বোধ করিলাম।
ইফতার তো অনেক দেরি, কি করা যায় ? চল বান্দর-বৃন্দ ঈদ মার্কেটে ঢুঁ দিয়া আসি, আমি প্রস্তাব রাখিলাম। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, বলিতে হইবে ???
সমস্বরে হূউউউউ , চল যাই।
মার্কেট ভরা তেতুল !! নাহ আমার কথা না। কোন এক মনীষী বলিয়াছিলেন।
যাই হোক, ৩ টা মার্কেট ঘুরিয়া, তেতুল দেখিয়া, ভারী রোজাটা হালকা করিয়া বের হইলাম । ৬.২০- ঘড়িতে। মনের মধ্যে আযান পড়িয়া গেছে। তৃষ্ণায় কাতর বলিলে কাতর শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ হয় না। বলিতে হইবে ( কাতর) টু দি পাওয়ার ১০০।
ভাজা-পোড়া, ফল-মূল ইত্যাদি কিনিলাম। আর কিনিলাম ২ লিটার ষড়বোত(শরবত)।
কি-সে ষড়বোত ?
বিশুদ্ধ ওয়াসার পানি দিয়ে তৈরি ১ নং কাগজী লেবুর ষড়বোত !! আমি শরবত ওয়ালার সাথে তর্ক করিলাম, ইহা বিশুদ্ধ হইতেই পারে না !!
উনি বলিলেন প্রতিদিন শত শত মানুষ খাচ্ছে !! কই ?? কারোর তো কিছু হয় না !! আমিও বিশ্বাস করিলাম। আসলে বিশ্বাস করিতে ইচ্ছে হইল। দেশ ডিজিটাল হইতেছে, ওয়াসার পানি কেন বিশুদ্ধ হইবে না ??? খাটি কথা !!
নিরিবিলি আযানের অপেক্ষায় বসিয়া।
আযান শুরু হয়ার সাথে সাথে ষড়বোতের বোতোলে চমুক লাগাইলাম। আহা ...... কি শান্তি !! প্রায় ১ লিটার খাইয়া ফেলিলাম !! অন্যরা ষড়বোত কম গিলিলো। আ্মার অন্য কিছু খাইবার অবকাশ হইল না। আমি একেবারে চাঙ্গা !!
ইফতার শেষ করিয়া আবার মার্কেটে ঢুকিলাম ।
১০-২০ মিনিট পার হইতেই হঠাত, পাকস্থলীতে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হইল। পাত্তা দিলাম না । কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই ভূকম্পন নিম্নগামী হইল।
চাপিয়া ধরিয়া বাসায় ফিরিতে উদ্যত হইলাম। বান্দর-বৃন্দ আমাকে ছাড়িতে চাহে না ! কি বিপদ !! খুলিয়া বলিলাম।
বান্দর-বৃন্দ বলিল চল দেখি কোন পাবলিক টয়লেট পাই কি না। আমার তো মন মানে না !
আর সহ্য হইতে চাহিল না ! শেষমেশ একটি রিকশা করিয়া দ্রুত বাসায় ফিরিলাম। পেছন দরজার নিরাপত্তা প্রায় ভাঙ্গিয়া পরিয়াছে এমন সময় বাসায় পৌঁছাইলাম। ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ দিয়া, ভাংতির আশা ত্যাগ করিয়া দিলাম দৌড়। পদ-দ্বয় আঁটিয়া ধরিয়া ঘন্টায় ১০০ মাইল বেগে বাসার ভেতর প্রবেশ করিলাম। ৬ তলায় উঠিবার শক্তি-সামর্থ্য বা যোগ্যতা কোনটাই আমার ছিল না।
নিচে কেয়ার টেকার মামার বাথরুমে ঢুকিয়া মনে হইল সোজা সর্গে প্রবেশ করিয়াছি। আহা ...। মল বিসর্জন দিতে বসিয়া বুঝিলাম আসলে পশ্চাতদেশ দিয়া জল বিসর্জন করিতেছি। বিশুদ্ধ ওয়াসার জল !!!
যাই হোক, সুখ পাইলাম। ইহাকে বলে প্রকৃত সুখ। আহা......। এমন সুখ আমি বাপের জন্মেও পাই নি !!
সর্গ থেকে বাহির হইলাম মনিট দশেক পর। শরীর ঘামিয়া গেঞ্জিটা ভিজিয়া গেছে। একটা জিনিস বুঝিলাম, সর্গে থাকিলে ঠান্ডা-গরম অনূভুত হয় না ।
ডিজিটাল দেশের ডিজিটাল বিশুদ্ধ পানি পান করিয়া পাপ করিয়াছি। নাহ , পাপ করিয়াছি বেশি পান করিয়া।
প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে !
ওষুধের দোকানে গিয়া ওষুধ কিনিলাম। ভাবিলাম , যাই কাকার চায়ের দোকানে গিয়া খাইয়া ফেলি !!
যেইকথা সেই কাজ, কাকার দোকানে গিয়া ওষুধ ছাড়াইলাম, এক গ্লাস পানি লইয়া খাইতে যাব, এমন সময় মনে হইল ইহা কি বিশুদ্ধ ওয়াসার পানি ??
কাকা-কে জিজ্ঞাসা করিতেই সন্দেহ সত্যি হইল !
বুকের ভেতর ধড়াস করিয়া উঠিল ! মনে হইল, এই বুঝি আমার হৃদপিণ্ড পশ্চাতদেশ দিয়া বাহির হইয়া গেল !!
ততক্ষণে ২য় বারের মত সর্গের ডাক শুনিতে পাইলাম। পদ-দ্বয় আঁটিয়া ধরিয়া ঘন্টায় ৫০ মাইল বেগে বাসার ভেতর প্রবেশ করিলাম। ৬ তলায় উঠিয়া কাজ সারিলাম।
ওষুধ খাইলাম, সর্গ ভ্রমনের গল্প লিখিতে বসিলাম ।
(এই গল্প লিখিতে লিখিতে আরো দুই বার ঘুরিয়া আসিয়াছি, এখন ভালো। ওষুধটা ভালো ছিল ! )

No comments:
Post a Comment